জ্বর, মাথাব্যথা, দাঁতের ব্যথা কিংবা শরীর ব্যথা হলে বাংলাদেশে অনেকেই প্রথমে প্যারাসিটামল খান। পরিচিত ওষুধ হলেও ভুল মাত্রায় গ্রহণ করলে এটি মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বিশেষ করে একই দিনে প্যারাসিটামলসহ একাধিক ওষুধ খেলে অজান্তেই মোট মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই প্যাকেটের উপাদান ও নির্দেশনা দেখে ওষুধ গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ওষুধের নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কিত আরও লেখা OneLifeBD এর ঔষধের তথ্য বিভাগে পাওয়া যাবে। নিজের রোগ অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শকে সবসময় অগ্রাধিকার দিতে হবে।
প্যারাসিটামল কী কাজে ব্যবহার করা হয়?
প্যারাসিটামল মূলত ব্যথা কমানো এবং জ্বরের তাপমাত্রা কমানোর ওষুধ। মাথাব্যথা, দাঁতের ব্যথা, গলা ব্যথা এবং ঠান্ডা জ্বরের উপসর্গে এটি ব্যবহার করা হয়।
NHS এর প্যারাসিটামল নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রচলিত প্যারাসিটামল ট্যাবলেট সাধারণত ৫০০ মিলিগ্রাম শক্তির হয়ে থাকে এবং খাবারের সঙ্গে বা ছাড়াও গ্রহণ করা যায়।
জ্বর নিজে একটি রোগ নয়, বরং বিভিন্ন অসুস্থতার উপসর্গ হতে পারে। বিভিন্ন রোগ ও তার লক্ষণ সম্পর্কে OneLifeBD এর রোগ ও স্বাস্থ্য বিভাগে আরও তথ্য রয়েছে।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক কতটুকু প্যারাসিটামল খেতে পারেন?
NHS অনুযায়ী, সাধারণ ৫০০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট ব্যবহারকারী প্রাপ্তবয়স্ক একজন ব্যক্তি একবারে একটি অথবা দুটি ট্যাবলেট নিতে পারেন। পরবর্তী মাত্রার আগে অন্তত চার ঘণ্টা বিরতি রাখতে হয়।
একই নির্দেশনায় ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ আটটি ৫০০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেটের সীমা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মোট পরিমাণ চার হাজার মিলিগ্রামের বেশি হওয়া উচিত নয়।
তবে এই সর্বোচ্চ সীমাকে সবার জন্য লক্ষ্য হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ওজন ৫০ কেজির কম হলে কম মাত্রা প্রয়োজন হতে পারে বলে NHS উল্লেখ করেছে। তাই নিজের ওষুধের প্যাকেট বা লিফলেটের নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ। চিকিৎসক আলাদা মাত্রা দিয়ে থাকলে সেই নির্দেশনাই অনুসরণ করতে হবে।
বেশি প্যারাসিটামল খেলে কী হতে পারে?
FDA এর প্যারাসিটামল বা acetaminophen নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, অতিরিক্ত পরিমাণ গ্রহণ করলে গুরুতর লিভার ক্ষতি হতে পারে এবং পরিস্থিতি জীবনহানির পর্যায়েও পৌঁছাতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অতিরিক্ত প্যারাসিটামল গ্রহণের পর শুরুতেই সবসময় গুরুতর উপসর্গ দেখা নাও দিতে পারে। ফলে ভালো লাগছে বলে অপেক্ষা করা নিরাপদ নয়। MedlinePlus এর overdose সম্পর্কিত তথ্য অনুযায়ী, বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা এবং ঘাম হতে পারে। কিছু উপসর্গ প্রকাশ পেতে সময়ও লাগতে পারে।
একই সঙ্গে দুটি ওষুধ খাওয়ার সময় সতর্ক কেন?
অনেক ঠান্ডা, ফ্লু বা ব্যথার ওষুধেও প্যারাসিটামল থাকতে পারে। ফলে আলাদা প্যারাসিটামল ট্যাবলেটের সঙ্গে এমন ওষুধ খেলে অজান্তেই মোট মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
FDA সতর্ক করেছে যে শত শত প্রেসক্রিপশন ও সাধারণভাবে কেনা ওষুধে acetaminophen থাকতে পারে। তাই একই উপাদান থাকা একাধিক ওষুধ একসঙ্গে গ্রহণ করা উচিত নয়।
এই কারণে নতুন কোনো ব্যথা বা ঠান্ডার ওষুধ নেওয়ার আগে প্যাকেটের active ingredient দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বুঝতে অসুবিধা হলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞাসা করা ভালো। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং অসুস্থতার সময় নিজের যত্ন সম্পর্কিত আরও তথ্য OneLifeBD এর জীবনযাপন বিভাগে পাওয়া যাবে।
কারা প্যারাসিটামল খাওয়ার আগে বেশি সতর্ক থাকবেন?
লিভারের রোগ থাকলে নিজের সিদ্ধান্তে নিয়মিত প্যারাসিটামল ব্যবহার না করে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত বেশি অ্যালকোহল গ্রহণের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
ওজন ৫০ কেজির কম হলে প্রচলিত সর্বোচ্চ প্রাপ্তবয়স্ক মাত্রা উপযুক্ত নাও হতে পারে। অন্যান্য ওষুধ নিয়মিত গ্রহণ করলেও চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে সেগুলোর তথ্য জানানো গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুদের প্যারাসিটামলের মাত্রা প্রাপ্তবয়স্কদের মতো ধরে দেওয়া উচিত নয়। শিশুদের ওষুধ ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আরও লেখা OneLifeBD এর মা ও শিশু বিভাগে পাওয়া যাবে।
ভুল করে বেশি খেয়ে ফেললে কী করবেন?
নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি প্যারাসিটামল খেয়ে ফেললে উপসর্গের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। দ্রুত স্থানীয় জরুরি চিকিৎসাসেবা বা নিকটস্থ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
MedlinePlus এর চিকিৎসা তথ্যে বলা হয়েছে, সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে বেশি acetaminophen গ্রহণ করলে কোনো উপসর্গ না থাকলেও দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া উচিত।
হাসপাতালে যাওয়ার সময় সম্ভব হলে ব্যবহৃত ওষুধের প্যাকেট সঙ্গে নেওয়া ভালো। এতে চিকিৎসক ওষুধটির শক্তি, উপাদান এবং সম্ভাব্য গ্রহণের পরিমাণ দ্রুত বুঝতে পারেন।
শেষ কথা
প্যারাসিটামল সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করলে জ্বর ও বিভিন্ন ধরনের ব্যথা কমানোর পরিচিত ওষুধ। কিন্তু পরিচিত ও সহজলভ্য বলেই ইচ্ছেমতো বেশি মাত্রায় গ্রহণ করা নিরাপদ নয়।
সবসময় ওষুধের লেবেল পড়ুন, দুটি মাত্রার মধ্যে নির্ধারিত বিরতি রাখুন এবং একই সঙ্গে প্যারাসিটামল রয়েছে এমন একাধিক ওষুধ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।
আর ভুল করে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি গ্রহণ করলে শরীর খারাপ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া গুরুতর লিভার ক্ষতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।