কিডনি রোগের লক্ষণ কী? কখন কিডনি পরীক্ষা করা জরুরি

কিডনি রোগের লক্ষণ শুরুতেই সবসময় বোঝা যায় না। একজন মানুষ স্বাভাবিকভাবে দৈনন্দিন কাজকর্ম করলেও তার কিডনির কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে পারে। তাই শুধু কোমর ব্যথা, প্রস্রাবের পরিবর্তন বা পা ফুলে যাওয়ার অপেক্ষায় থেকে কিডনি ভালো আছে কি না বিচার করা ঠিক নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ বা CKD প্রায়ই শেষের পর্যায় পর্যন্ত লক্ষণহীন থাকতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কিডনি পরীক্ষার গুরুত্ব আরও বেশি। এ বিষয়ে OneLifeBD এর ডায়াবেটিসের লক্ষণ ও রক্তে শর্করা পরীক্ষা সম্পর্কিত লেখাটিও পড়তে পারেন।

কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ কী

কিডনি রোগের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেরই কোনো লক্ষণ থাকে না। যুক্তরাষ্ট্রের National Institute of Diabetes and Digestive and Kidney Diseases বা NIDDK বলছে, অনেক মানুষ advanced stage এ যাওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো লক্ষণ অনুভব করেন না।

রোগ অগ্রসর হলে ক্লান্তি, ক্ষুধা কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব, ঘুমের সমস্যা, মনোযোগে সমস্যা, প্রস্রাবের পরিমাণ বা ঘনত্বে পরিবর্তন, ফেনাযুক্ত প্রস্রাব, চুলকানি, পেশিতে টান এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় শ্বাসকষ্টও হতে পারে। তবে এসব লক্ষণের অনেকগুলো অন্য রোগেও হতে পারে, তাই লক্ষণ দেখে নিজে কিডনি রোগ নির্ণয় করা ঠিক নয়।

পা ফুললেই কি কিডনি রোগ হয়েছে

না। পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে কিডনি অতিরিক্ত লবণ ও তরল ঠিকমতো বের করতে না পারলে শরীরে পানি জমে পা, গোড়ালি বা অন্য অংশ ফুলতে পারে। NIDDK বলছে, এই ধরনের edema তুলনামূলকভাবে advanced kidney disease অথবা প্রস্রাবে অনেক বেশি protein যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।

তাই পা ফুলে গেলেই কিডনি নষ্ট হয়েছে ধরে নেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি দীর্ঘদিনের ফোলাভাব অবহেলা করাও উচিত নয়।

কারা কিডনি রোগের বেশি ঝুঁকিতে আছেন

WHO অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর মধ্যে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। হৃদরোগ, কিডনির filtering unit এর প্রদাহ, কিছু বংশগত রোগ, সংক্রমণ এবং কিছু ওষুধ বা বিষাক্ত পদার্থও কিডনির ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদের জন্য কিডনির স্বাস্থ্যের দিকেও নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। OneLifeBD এর উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ এবং কখন রক্তচাপ মাপা জরুরি লেখায় এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।

কিডনি ভালো আছে কিনা জানতে কোন পরীক্ষা করা হয়

শুধু serum creatinine এর একটি সংখ্যা দেখেই কিডনির সম্পূর্ণ অবস্থা বিচার করা উচিত নয়। Creatinine এর ফল ব্যবহার করে eGFR হিসাব করা হয়, যা কিডনি কতটা ভালোভাবে রক্ত থেকে বর্জ্য ছেঁকে বের করছে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো প্রস্রাবের albumin to creatinine ratio বা ACR। সুস্থ কিডনি সাধারণত রক্তের albumin উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রস্রাবে যেতে দেয় না। কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রস্রাবে albumin বেড়ে যেতে পারে।

WHO এর ২০২৬ guidance অনুযায়ী, ভিন্ন সময়ে অন্তত ৯০ দিনের ব্যবধানে পাওয়া eGFR 60 mL/min/1.73m² এর নিচে থাকা CKD নির্দেশ করতে পারে। একইভাবে স্থায়ীভাবে urine ACR 30 mg/g এর বেশি থাকাও কিডনি রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন। একটি মাত্র অস্বাভাবিক ফল দেখে তাই নিজে থেকে CKD নির্ণয় করা উচিত নয়।

কখন কিডনি পরীক্ষা করা জরুরি

বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কিডনির সমস্যা আগে শনাক্ত করার জন্য eGFR ও urine albumin পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। WHO এই ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ক্ষেত্রে primary care পর্যায়ে এই দুটি পরীক্ষার মাধ্যমে case finding এর কথা বলেছে।

বর্তমান KDIGO 2024 CKD Guideline কিডনি রোগ মূল্যায়ন ও ঝুঁকি নির্ধারণে eGFR এর পাশাপাশি albuminuria বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেয়। ব্যক্তির বয়স, অন্য রোগ এবং আগের পরীক্ষার ফল অনুযায়ী কত ঘন ঘন পরীক্ষা প্রয়োজন তা চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

কিডনি সুস্থ রাখতে কী করা যায়

WHO নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং তামাক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ থাকলে রক্তে শর্করা, রক্তচাপ এবং রক্তের lipid সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করাও CKD এর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

দৈনন্দিন শারীরিক কার্যকলাপ বাড়াতে OneLifeBD এর প্রতিদিন কত মিনিট হাঁটা উচিত লেখাটি দেখতে পারেন। একই সঙ্গে খাবারে অতিরিক্ত sodium নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাওয়া উচিত লেখাটিও কাজে আসবে।

লক্ষণ না থাকলেও কিডনির ঝুঁকি অবহেলা করবেন না

কিডনি রোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো, লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই কিডনির ক্ষতি শুরু হতে পারে। তাই ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো ঝুঁকি থাকলে শুধু শরীরের লক্ষণের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিডনির পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

WHO বলছে, কিডনি রোগ দ্রুত শনাক্ত করা এবং সময়মতো চিকিৎসার উদ্দেশ্য হলো রোগের অগ্রগতি ধীর করা, হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো এবং advanced kidney disease এর জটিলতা প্রতিরোধ করা।

এখন এই version এ ৪টি OneLifeBD internal link সরাসরি body এর মধ্যে বসানো আছে: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁটা এবং লবণ। পাশাপাশি WHO, NIDDK ও KDIGO এর outgoing links থেকে tracking parameterও সরিয়ে দিয়েছি।

Leave a Comment