উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ কি সত্যিই বোঝা যায়? কখন রক্তচাপ মাপা জরুরি

মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা ঘাড় ভার লাগলেই অনেকে বলেন, “প্রেসার বেড়েছে।” আবার কোনো শারীরিক সমস্যা অনুভব না করলে ধরে নেন রক্তচাপ স্বাভাবিক। বাস্তবে দুটি ধারণাই ভুল হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষেরই কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। তাই রক্তচাপ মাপাই উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত করার নির্ভরযোগ্য উপায়। চিকিৎসা না হলে দীর্ঘমেয়াদে এটি হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ কি সবসময় দেখা যায়

না। উচ্চ রক্তচাপকে অনেক সময় নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি বলা হয়, কারণ একজন মানুষ স্বাভাবিক বোধ করলেও তার রক্তচাপ বেশি থাকতে পারে। CDC ও বলছে, high blood pressure সাধারণত কোনো warning sign বা symptom তৈরি করে না।

তাই মাথাব্যথা না থাকা, মাথা না ঘোরা বা শরীর ভালো লাগাকে স্বাভাবিক রক্তচাপের প্রমাণ হিসেবে ধরা ঠিক নয়। নিয়মিত রক্তচাপ মাপার গুরুত্ব এখানেই।

রক্তচাপ কত হলে বেশি ধরা হয়

রক্তচাপ দুটি সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়। প্রথমটি systolic pressure, অর্থাৎ হৃদযন্ত্র সংকুচিত হয়ে রক্ত পাম্প করার সময়কার চাপ। দ্বিতীয়টি diastolic pressure, অর্থাৎ হৃদযন্ত্র দুই স্পন্দনের মাঝখানে বিশ্রামে থাকার সময়কার চাপ।

WHO এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, ভিন্ন দুই দিনে মাপার পর উভয় দিনেই systolic pressure 140 mmHg বা তার বেশি এবং অথবা diastolic pressure 90 mmHg বা তার বেশি হলে hypertension নির্ণয় করা হয়। তবে ব্যবহৃত clinical guideline এবং ব্যক্তির অন্য রোগের ওপর চিকিৎসার লক্ষ্য ভিন্ন হতে পারে।

তাই বাড়িতে একবার 140/90 দেখলেই নিজে থেকে ওষুধ শুরু করা বা বন্ধ করা উচিত নয়। আবার এমন রিডিং বারবার পাওয়া গেলেও অবহেলা না করে চিকিৎসকের মূল্যায়ন নেওয়া প্রয়োজন।

খুব বেশি রক্তচাপে কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে

যদিও সাধারণ hypertension প্রায়ই লক্ষণহীন, অত্যন্ত বেশি রক্তচাপে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। WHO অনুযায়ী, প্রায় 180/120 mmHg বা তার বেশি রক্তচাপের সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, দৃষ্টির পরিবর্তন, বমি বা বিভ্রান্তির মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

এ ধরনের অত্যন্ত বেশি রিডিংয়ের সঙ্গে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, দৃষ্টির সমস্যা, বিভ্রান্তি বা অন্য গুরুতর উপসর্গ থাকলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

বাড়িতে সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপবেন কীভাবে

ভুল পদ্ধতিতে রক্তচাপ মাপলে রিডিংও ভুল হতে পারে। CDC এর ২০২৬ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, মাপার আগে অন্তত পাঁচ মিনিট শান্তভাবে বসে থাকা উচিত। পিঠ সমর্থিত রাখতে হবে, দুই পা মেঝেতে সমানভাবে রাখতে হবে এবং পা ক্রস করা যাবে না।

কাফটি কাপড়ের ওপর নয়, খালি বাহুতে লাগাতে হবে এবং বাহু টেবিলের ওপর বুকের উচ্চতায় রাখতে হবে। রক্তচাপ মাপার সময় কথা বলা উচিত নয়। মাপার আগের ৩০ মিনিটে ধূমপান, ক্যাফেইন বা ব্যায়াম রিডিংকে প্রভাবিত করতে পারে। বাড়িতে পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে CDC একই সময়ে মাপা এবং এক থেকে দুই মিনিট ব্যবধানে অন্তত দুটি রিডিং নেওয়ার পরামর্শ দেয়।

বাংলাদেশের জাতীয় উচ্চ রক্তচাপ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকাতেও সঠিক posture, উপযুক্ত cuff size এবং সঠিক পদ্ধতিতে একাধিক রিডিং নেওয়ার গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে।

লবণ, হাঁটা ও ঘুমের সঙ্গে রক্তচাপের সম্পর্ক

উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে জীবনযাপনের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। WHO স্বাস্থ্যকর খাবার, লবণ কমানো, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং তামাক এড়িয়ে চলার মতো পরিবর্তনের পরামর্শ দেয়।

খাবারে sodium নিয়ন্ত্রণ করতে OneLifeBD এর প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাওয়া উচিত লেখাটি পড়তে পারেন। নিয়মিত শরীর সক্রিয় রাখতে প্রতিদিন কত মিনিট হাঁটা উচিত এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের জন্য রাতে কত ঘণ্টা ঘুমানো উচিত লেখাটিও কাজে আসবে।

উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়লে কী করবেন

একবার বেশি রিডিং পাওয়া মানেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ সময়, মানসিক চাপ, ক্যাফেইন, ব্যায়াম এবং মাপার পদ্ধতিও রিডিংকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে বারবার বেশি রিডিং পাওয়া গেলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

যাদের hypertension ইতিমধ্যে নির্ণয় হয়েছে, তাদের চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ নিজের সিদ্ধান্তে বন্ধ বা ডোজ পরিবর্তন করা উচিত নয়। WHO অনুযায়ী, জীবনযাপনের পরিবর্তনের পাশাপাশি অনেকের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ওষুধও প্রয়োজন হতে পারে।

লক্ষণের অপেক্ষা নয়, নিজের রক্তচাপ জানুন

উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই “আমার তো কোনো সমস্যা হচ্ছে না” ভেবে রক্তচাপ পরীক্ষা না করা নিরাপদ ধারণা নয়।

বিশেষ করে আগে বেশি রিডিং পাওয়া গেলে বা চিকিৎসক নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিলে সঠিক পদ্ধতিতে রক্তচাপ মাপুন এবং রিডিং লিখে রাখুন। উচ্চ রক্তচাপ দ্রুত শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

1 thought on “উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ কি সত্যিই বোঝা যায়? কখন রক্তচাপ মাপা জরুরি”

Leave a Comment