কোষ্ঠকাঠিন্য হলে আমাদের দেশে অনেকেই প্রথমে ইসবগুলের ভুসির কথা ভাবেন। সহজলভ্য এই আঁশজাতীয় খাবারটি সঠিকভাবে খেলে মল নরম করতে এবং সহজে মলত্যাগে সাহায্য করতে পারে। তবে ইসবগুল খেলেই যে সব ধরনের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমাধান হবে, এমনটি ভাবা ঠিক নয়।
ইসবগুল মূলত এক ধরনের দ্রবণীয় আঁশ। এটি অন্ত্রে পানি শোষণ করে ফুলে ওঠে এবং মলের পরিমাণ ও কোমলতা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে মলত্যাগ তুলনামূলক সহজ হতে পারে। MedlinePlus এর ইসবগুল সম্পর্কিত নির্দেশনা অনুযায়ী, কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রে ইসবগুল একটি bulk forming laxative হিসেবে কাজ করে।
ইসবগুলের ভুসি কীভাবে কাজ করে?
ইসবগুলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো পানি শোষণ করার ক্ষমতা। এটি অন্ত্রে গিয়ে তরল শোষণ করে এবং মলকে তুলনামূলক নরম ও ভারী করে। এতে অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়ার মাধ্যমে মল বের হওয়া সহজ হতে পারে।
NHS এর তথ্য অনুযায়ী, ispaghula husk বা ইসবগুলজাতীয় আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় এবং সাধারণত কাজ করতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। তাই একবার খেয়েই সঙ্গে সঙ্গে ফল না পেলে অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়।
ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার সঠিক নিয়ম
ইসবগুল খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পর্যাপ্ত পানি। শুকনা ইসবগুল মুখে নিয়ে পরে অল্প পানি পান করার অভ্যাস এড়ানো ভালো।
MedlinePlus এর নির্দেশনায় গুঁড়া বা দানাদার psyllium গ্রহণের সময় প্রায় ২৪০ মিলিলিটার তরলের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে বাজারে বিভিন্ন ধরনের ইসবগুল বা psyllium পণ্য পাওয়া যায় এবং সেগুলোর মাত্রা এক নাও হতে পারে। তাই প্যাকেটের নির্দেশনা অনুসরণ করা বা প্রয়োজনে চিকিৎসক কিংবা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
ইসবগুল পানিতে মেশানোর পর বেশি সময় রেখে না দিয়ে নির্দেশনা অনুযায়ী পান করা উচিত। পাশাপাশি সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ।
কোষ্ঠকাঠিন্যে শুধু ইসবগুলের ওপর নির্ভর করবেন না
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমাধানে দৈনন্দিন খাবারের দিকেও নজর দিতে হবে। NIDDK এর খাদ্য নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের বয়স ও লিঙ্গভেদে সাধারণত দৈনিক প্রায় ২২ থেকে ৩৪ গ্রাম আঁশ প্রয়োজন হতে পারে।
ডাল, ছোলা, শাকসবজি, ফল, ওটস এবং বিভিন্ন পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার থেকে প্রাকৃতিকভাবে আঁশ পাওয়া যায়। খাবারে আঁশ বাড়ালে পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডও কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক হতে পারে। NIDDK এর কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা নির্দেশনা এ খাবারে আঁশ, পর্যাপ্ত তরল এবং নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইসবগুল খেলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
শুরুতে কারও কারও পেটে গ্যাস বা ফাঁপা অনুভূত হতে পারে। NHS এটিকে ispaghula husk এর পরিচিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রেখেছে।
অন্যদিকে পর্যাপ্ত পানি ছাড়া ইসবগুল খাওয়া নিরাপদ নয়। গিলতে সমস্যা আছে বা অন্ত্রে বাধার ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। ইসবগুল গ্রহণের পর শ্বাসকষ্ট, গিলতে অসুবিধা, তীব্র পেটব্যথা, বমি বা অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া উচিত।
অন্য ওষুধ খেলে কী করবেন?
ইসবগুল কিছু ওষুধের শোষণ বা কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিয়মিত কোনো ওষুধ খেলে একই সময়ে ইসবগুল নেওয়ার আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সঙ্গে কথা বলা ভালো।
NHS সাধারণভাবে ispaghula husk গ্রহণের অন্তত ৩০ মিনিট আগে বা পরে অন্য ওষুধ নেওয়ার কথা বলেছে। আবার নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে ব্যবধান আরও বেশি হতে পারে। তাই সবার জন্য একই সময়ের নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আপনার নিয়মিত ওষুধ থাকলে প্যাকেটের নির্দেশনা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করুন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?
কোষ্ঠকাঠিন্য দীর্ঘদিন চলতে থাকলে শুধু ইসবগুল খেয়ে সমস্যাটি চাপা দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে মলের সঙ্গে রক্ত, মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত, একটানা পেটব্যথা অথবা দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
NIDDK এর কোষ্ঠকাঠিন্য নির্দেশিকায় এ ধরনের লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শেষ কথা
ইসবগুলের ভুসি কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য পরিচিত এবং কার্যকর আঁশের একটি উৎস হতে পারে। কিন্তু এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো পর্যাপ্ত পানির সঙ্গে গ্রহণ করা। পাশাপাশি ফল, শাকসবজি, ডাল ও পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার থেকে নিয়মিত আঁশ গ্রহণ এবং সক্রিয় জীবনযাপন কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।
ইসবগুল কোনো গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী পেটের সমস্যার চিকিৎসার বিকল্প নয়। সমস্যা বারবার ফিরে এলে বা অস্বাভাবিক লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
তথ্যসূত্র: MedlinePlus, NIDDK, NHS