গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা কেন হয়? লক্ষণ, পরীক্ষা ও করণীয়

বাংলাদেশে গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা এখনো বড় একটি মাতৃস্বাস্থ্য সমস্যা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও UNICEF পরিচালিত Bangladesh MICS 2025 জরিপ অনুযায়ী, দেশের গর্ভবতী নারীদের ৫৩.১ শতাংশের রক্তস্বল্পতা রয়েছে। অর্থাৎ জাতীয় জরিপের হিসাবে প্রতি দুইজন গর্ভবতী নারীর মধ্যে একজনেরও বেশি এই সমস্যায় আক্রান্ত।

রক্তস্বল্পতা মানেই শুধু শরীরে আয়রনের ঘাটতি নয়। আয়রনের অভাব এর অন্যতম প্রধান কারণ হলেও ফোলেট বা ভিটামিন B12 এর ঘাটতি, রক্তক্ষরণ, সংক্রমণ, দীর্ঘমেয়াদি কিছু রোগ এবং থ্যালাসেমিয়ার মতো বংশগত রক্তের সমস্যাও এর পেছনে থাকতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কম পাওয়া গেলে কেন কমেছে, সেটিও খুঁজে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা আসলে কী?

আমাদের রক্তের লোহিত কণিকায় থাকা হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। হিমোগ্লোবিন প্রয়োজনের তুলনায় কমে গেলে রক্তের অক্সিজেন বহনের ক্ষমতা কমে যায়। এই অবস্থাকেই রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া বলা হয়।

গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে রক্তের পরিমাণ বাড়ে। এ সময় রক্তের তরল অংশ তুলনামূলক বেশি বাড়ার কারণে হিমোগ্লোবিন কিছুটা কম দেখা যেতে পারে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে গেলে সেটিকে শুধু গর্ভাবস্থার স্বাভাবিক পরিবর্তন ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়।

গর্ভাবস্থায় কত হিমোগ্লোবিন হলে রক্তস্বল্পতা?

WHO এর গর্ভকালীন পরিচর্যার নির্দেশনা অনুযায়ী, গর্ভাবস্থার প্রথম ও তৃতীয় তিন মাসে হিমোগ্লোবিন ১১ g/dL এর নিচে এবং দ্বিতীয় তিন মাসে ১০.৫ g/dL এর নিচে থাকলে রক্তস্বল্পতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে শুধু Hb কত আছে, সেই সংখ্যা দিয়ে রক্তস্বল্পতার কারণ জানা যায় না। এজন্য প্রয়োজন হলে চিকিৎসক আরও কিছু পরীক্ষা করতে পারেন।

গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা কেন হয়?

আয়রনের ঘাটতি

গর্ভাবস্থায় মায়ের নিজের শরীরের পাশাপাশি গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি এবং বাড়তি রক্ত তৈরির জন্য আয়রনের প্রয়োজন বেড়ে যায়। আগে থেকেই শরীরে আয়রনের মজুত কম থাকলে বা খাবার থেকে পর্যাপ্ত আয়রন না পেলে iron deficiency anaemia হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে গর্ভবতী নারীদের রক্তস্বল্পতার বড় একটি অংশের সঙ্গে আয়রনের ঘাটতি জড়িত। WHO এর গর্ভাবস্থায় আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড বিষয়ক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থায় মায়ের পাশাপাশি শিশুর বিকাশের জন্যও অতিরিক্ত আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড প্রয়োজন।

ফোলেটের ঘাটতি

ফোলেট নতুন কোষ ও স্বাভাবিক লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভাবস্থায় এর প্রয়োজন বেড়ে যায়। শরীরে পর্যাপ্ত ফোলেট না থাকলে রক্তস্বল্পতা তৈরি হতে পারে।

গর্ভধারণের শুরুর দিকের জন্য folic acid বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের প্রাথমিক বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ভিটামিন B12 এর ঘাটতি

Vitamin B12 স্বাভাবিক লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে প্রয়োজন। এর ঘাটতি হলে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে CBC পরীক্ষায় লোহিত রক্তকণিকার আকার অস্বাভাবিকভাবে বড় পাওয়া গেলে চিকিৎসক folate ও vitamin B12 ঘাটতির সম্ভাবনা বিবেচনা করতে পারেন।

এ কারণে শুধু “Hb কম মানেই iron কম” ধরে নেওয়া সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়।

থ্যালাসেমিয়া ও বংশগত রক্তের সমস্যা

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে থ্যালাসেমিয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তের রোগ, যেখানে স্বাভাবিকভাবে হিমোগ্লোবিন তৈরি ব্যাহত হতে পারে।

কারও হিমোগ্লোবিন দীর্ঘদিন কম থাকলে, পরিবারের কারও থ্যালাসেমিয়া থাকলে অথবা আয়রনের অবস্থা ঠিক থাকার পরও রক্তস্বল্পতা থেকে গেলে চিকিৎসক thalassemia বা অন্য haemoglobin disorder আছে কি না পরীক্ষা করার কথা বিবেচনা করতে পারেন।

এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, কারণ নিশ্চিত না হয়ে নিজের মতো করে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত আয়রন গ্রহণ করা ঠিক নয়।

রক্তক্ষরণ

গর্ভধারণের আগেই অতিরিক্ত মাসিকের কারণে কোনো নারীর শরীরে আয়রনের মজুত কমে থাকতে পারে। আবার গর্ভাবস্থায় অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হলে রক্তস্বল্পতা তৈরি হতে পারে অথবা আগে থেকে থাকা রক্তস্বল্পতা আরও গুরুতর হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় যেকোনো উল্লেখযোগ্য রক্তপাত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

কৃমি ও কিছু সংক্রমণ

কিছু পরজীবী সংক্রমণও রক্তস্বল্পতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে hookworm অন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদি রক্তক্ষরণের মাধ্যমে শরীরের আয়রন কমিয়ে দিতে পারে।

তবে গর্ভবতী নারী নিজে থেকে কৃমির ওষুধ গ্রহণ করবেন না। গর্ভাবস্থার সময়কাল ও ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করা উচিত।

দীর্ঘমেয়াদি রোগ ও প্রদাহ

দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ, কিছু সংক্রমণ, কিডনির রোগ এবং অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার কারণেও রক্তস্বল্পতা হতে পারে। তাই বারবার Hb কম পাওয়া গেলে শুধু খাদ্যাভ্যাসের দিকে না তাকিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য কারণও খুঁজে দেখা দরকার।

গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতার লক্ষণ কী?

হালকা রক্তস্বল্পতায় অনেক নারীর স্পষ্ট কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। আবার ক্লান্তি ও দুর্বলতার মতো কিছু উপসর্গ গর্ভাবস্থাতেও স্বাভাবিকভাবে দেখা যায়, ফলে রক্তস্বল্পতা আলাদাভাবে বোঝা কঠিন হতে পারে।

সাধারণ লক্ষণের মধ্যে অতিরিক্ত ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ফ্যাকাশে ভাব, স্বাভাবিক কাজেই শ্বাসকষ্ট এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা থাকতে পারে।

এ কারণেই শুধু লক্ষণের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতার পরীক্ষা কী কী?

রক্তস্বল্পতা আছে কি না এবং এর সম্ভাব্য কারণ বোঝার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো Complete Blood Count বা CBCWHO এর antenatal care recommendation অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা নির্ণয়ের জন্য Full Blood Count প্রস্তাবিত পদ্ধতি। যেখানে এই পরীক্ষা সম্ভব নয়, সেখানে haemoglobinometer দিয়ে Hb পরিমাপ করা যেতে পারে।

CBC থেকে Hb ছাড়াও লোহিত রক্তকণিকা সম্পর্কিত বেশ কিছু তথ্য পাওয়া যায়। বিশেষ করে MCV দেখে লোহিত রক্তকণিকা স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট নাকি বড়, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

Serum ferritin শরীরে জমা থাকা আয়রনের অবস্থা বুঝতে সহায়তা করতে পারে। Iron deficiency সন্দেহ হলে চিকিৎসক রোগীর সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে এই পরীক্ষা দিতে পারেন।

Vitamin B12 এবং folate পরীক্ষাও প্রয়োজন হতে পারে, বিশেষ করে CBC এর ধরন বা রোগীর ইতিহাস থেকে এসব পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির সন্দেহ হলে।

থ্যালাসেমিয়া বা অন্য haemoglobin disorder সন্দেহ হলে চিকিৎসক haemoglobin electrophoresis বা সমজাতীয় haemoglobin analysis করতে বলতে পারেন।

অর্থাৎ সব গর্ভবতী নারীর জন্য সব পরীক্ষা একসঙ্গে প্রয়োজন হয় না। CBC, চিকিৎসার ইতিহাস, খাবারের ধরন, পারিবারিক ইতিহাস এবং চিকিৎসায় সাড়া কেমন হচ্ছে, এসব দেখে চিকিৎসক পরবর্তী পরীক্ষা নির্ধারণ করেন।

শুধু হিমোগ্লোবিন কম মানেই কি আয়রনের ঘাটতি?

না। এটি এই পোস্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।

Iron deficiency একটি প্রধান কারণ হলেও সব anaemia iron deficiency anaemia নয়। তাই Hb কম দেখেই নিজের মতো করে বেশি মাত্রায় iron supplement শুরু করা উচিত নয়।

বিশেষ করে আয়রন গ্রহণের পরও Hb না বাড়লে অথবা বারবার রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে এর পেছনে folate বা B12 deficiency, বংশগত haemoglobin disorder, রক্তক্ষরণ কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না চিকিৎসকের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা কেন ঝুঁকিপূর্ণ?

গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরকে নিজের পাশাপাশি বেড়ে ওঠা শিশুর প্রয়োজনও পূরণ করতে হয়। রক্তস্বল্পতা বেশি হলে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পরিবহনের ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

WHO এর তথ্য অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা মা ও শিশুর প্রতিকূল স্বাস্থ্যফলের সঙ্গে সম্পর্কিত। মাতৃ রক্তস্বল্পতা ও আয়রনের ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি low birth weight এবং preterm birth এর ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যেও antenatal iron ও folic acid supplementation সুপারিশ করা হয়।

তবে রক্তস্বল্পতা থাকলেই মা বা শিশুর এসব জটিলতা হবেই, এমন নয়। ঝুঁকি নির্ভর করে রক্তস্বল্পতার মাত্রা, কারণ, কতদিন ধরে রয়েছে এবং মায়ের অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর।

বাংলাদেশে গর্ভবতী নারীদের রক্তস্বল্পতা কতটা বেশি?

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় তথ্য সমস্যাটির গুরুত্ব পরিষ্কার করে।

Bangladesh Bureau of Statistics ও UNICEF এর MICS 2025 জরিপ দেশের সব ৬৪ জেলা অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং ৬২,৯৮০টি household এর তথ্য সংগ্রহ করেছে। এই nationally representative survey তেই গর্ভবতী নারীদের ৫৩.১ শতাংশের anaemia পাওয়া গেছে

অর্থাৎ বাংলাদেশের বাস্তবতায় গর্ভকালীন রক্তস্বল্পতাকে ছোটখাটো সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নিয়মিত antenatal care, সময়মতো পরীক্ষা এবং রক্তস্বল্পতার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা এখানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

গর্ভাবস্থায় আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড কতটা প্রয়োজন?

WHO এর বর্তমান সুপারিশ অনুযায়ী, গর্ভবতী নারীদের জন্য দৈনিক ৩০ থেকে ৬০ mg elemental iron এবং ৪০০ microgram বা ০.৪ mg folic acid supplementation সুপারিশ করা হয়। এর উদ্দেশ্য maternal anaemia ও iron deficiency কমানোর পাশাপাশি কিছু প্রতিকূল pregnancy outcome এর ঝুঁকি কমানো।

বাংলাদেশের মতো যেখানে গর্ভবতী নারীদের মধ্যে anaemia prevalence ৪০ শতাংশের বেশি, WHO নির্দেশনায় উচ্চতর ৬০ mg elemental iron preventive dose পছন্দ করার কথা বলা হয়েছে। তবে এটি population level recommendation। কোনো নারীর রক্তস্বল্পতা ইতিমধ্যে ধরা পড়লে চিকিৎসার dose আলাদা হতে পারে।

তাই বাজার থেকে নিজের মতো করে iron tablet কিনে কতটি খাবেন সেটি নির্ধারণ করা ঠিক নয়। চিকিৎসক বা antenatal care provider যে ওষুধ ও মাত্রা নির্ধারণ করেছেন সেটিই অনুসরণ করা উচিত।

খাবার থেকে আয়রন কীভাবে পাওয়া যায়?

গর্ভাবস্থায় বৈচিত্র্যময় ও পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন। মাছ, মাংস ও ডিমের মতো প্রাণিজ খাবারের পাশাপাশি ডাল, শিমজাতীয় খাবার এবং বিভিন্ন সবুজ শাক থেকেও আয়রন পাওয়া যায়।

উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে পাওয়া iron শরীর তুলনামূলক কম শোষণ করে। Vitamin C সমৃদ্ধ খাবার একই meal এর সঙ্গে রাখলে উদ্ভিজ্জ উৎসের iron শোষণে সহায়তা করতে পারে।

তবে পরীক্ষায় রক্তস্বল্পতা ধরা পড়লে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর করে সেটির চিকিৎসা করা যথেষ্ট কি না, তা রক্তস্বল্পতার কারণ ও মাত্রার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসক supplement দিলে ভালো খাবার খাওয়ার পাশাপাশি সেটিও নিয়ম মেনে গ্রহণ করা প্রয়োজন।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

গর্ভাবস্থায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া, বিশ্রামেও শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অজ্ঞান হওয়ার মতো অনুভূতি, খুব দ্রুত হৃদস্পন্দন, বুকের অস্বস্তি কিংবা অস্বাভাবিক রক্তপাত হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

এছাড়া antenatal checkup এ Hb কম পাওয়া গেলে “গর্ভাবস্থায় এমন হয়” বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক কারণ অনুসন্ধান করে উপযুক্ত চিকিৎসা নির্ধারণ করবেন।

শেষ কথা

গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা বাংলাদেশে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। নতুন জাতীয় জরিপে দেশের অর্ধেকের বেশি গর্ভবতী নারীর রক্তস্বল্পতা পাওয়া যাওয়ায় সময়মতো পরীক্ষা ও সঠিক চিকিৎসার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রক্তস্বল্পতা মানেই শুধু আয়রনের ঘাটতি নয়। আয়রনের পাশাপাশি folate বা vitamin B12 deficiency, রক্তক্ষরণ, কিছু সংক্রমণ, দীর্ঘমেয়াদি রোগ এবং thalassemia সহ বংশগত রক্তের সমস্যাও কারণ হতে পারে। তাই নিয়মিত antenatal care, CBC এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত পরীক্ষা করে কারণ বুঝে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

স্বাস্থ্য সতর্কতা: এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্যতথ্য ও সচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি ব্যক্তিগত রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা supplement এর মাত্রা শুরু, বন্ধ বা পরিবর্তন করবেন না।

Leave a Comment